
গোয়ালন্দ : দৌলতদিয়া ঘাটে পণ্যবাহি ট্রাক পারাপারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দালালচক্র বিআইডাব্লিউটিসি’র ট্রাকের টিকিট কাউন্টার ঘিরে সক্রিয় রয়েছে। ফেরির টিকিট কিনে দেয়ার নামে এই চক্র ট্রাক চালকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি চরম জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতেকের বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এ নৌরুটে।
দালালের সরবরাহ করা ফেরি পারাপারে ট্রাকের একটি ভুয়া টিকিট বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে শনিবার দুপুরে দৌলতদিয়া বাহির চর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে সোহাগ (২৮) নামের এক দালাল ও ট্রাকসহ চালক যশোরের সিরাজুল ইসলামকে আটক করে তারা। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে আদালত দালাল চক্রের সদস্য সোহাগকে এক মাসের কারাদন্ড ও ট্রাকচালক লুৎফর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমান করে।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক শেখ আব্দল্লাহ সাদীদ জানান, দালাল চক্র কম ওজনের ট্রাকের টিকিট দিয়ে অতিরিক্ত পন্যবাহি ট্রাক ফেরি পারাপারের চেষ্টা করেছিল। মূলত ওই দালালের প্রলভোনে পরে ট্রাক চালক এ অপরাধের সাথে যুক্ত হন। দালালের পরমর্শেই ট্রাকচালক ওজন স্লীপ না নিয়ে অতিরিক্ত পন্য নিয়ে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করেন। তাই দালালকে জেল ও ট্রাক চালককে জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের সিরিয়ান না থাকলেও প্রভাবশালী এ দালাল চক্র ছাড়া ফেরির টিকিট মেলে না বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ট্রাক ড্রাইভার। জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক হাজার গাড়ি ফেরি পারাপার হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে বছরজুড়ে সংকট লেগেই থাকে। এতে ফেরি পারাপার ব্যাহত হওয়ায় উভয় ঘাটে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এ সুযোগে ঘাটে দালালচক্র আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা ফেরির টিকিট কিনে দেওয়ার নামে ট্রাক চালকদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
বিআইডব্লিটিসি’র দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দালালরা ট্রাকের চালক-হেলপার সেজে প্রতারনা করে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়া কাউন্টারের আসার আগেই ট্রাক চালকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সহযোগিতা নিতে বাধ্য করে। এ ক্ষেত্রে তাদের কি করার আছে। তিনি আরো বলেন, জাল টিকিট ও অন্যান্য জালিয়াতির ব্যাপারে সকল স্টাফদের সতর্ক করা হয়েছে। তারা প্রতিটি টিকিট সুক্ষ ভাবে পরীক্ষা করছেন।
